প্রত্যাশী সিমস্ প্রকল্পের উদ্যোগে আজ ৩১ মার্চ সকালে চট্টগ্রাম মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র-এর সম্মেলন কক্ষে নিরাপদ অভিবাসন ইস্যুতে চট্টগ্রাম জেলায় কর্মরত সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের সমন্বয়ে “নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সমন্বয় সভা” অনুষ্টিত হয়।
প্রত্যাশী ’র নির্বাহী পরিচালক মনোয়ারা বেগম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), চট্টগ্রাম মোঃ শরীফ উদ্দিন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) সুব্রত দাশ।
প্রত্যাশী সিমস্ প্রকল্প ব্যবস্থাপক বশির আহম্মদ মনি (সূফি মনি)’র সঞ্চালনায় অনুষ্টিত সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রত্যাশী সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ সেলিম। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন বিকেটিটিসি’র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী পলাশ কুমার বড়ুয়া, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস-এর সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক-এর সহকারি মহাব্যবস্থাপক হাসান মোহাম্মদ সাহারিয়া, চট্টগ্রাম মহিলা টিটিসি ’র অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী আশরিফা তানজীম, ওয়েলফেয়ার সেন্টার, চট্টগ্রাম-এর সহকারি পরিচালক মোঃ আতিকুল আলম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উৎস-এর নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কামাল যাত্রা, জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির বিভাগীয় সমন্বয়কারী এডভোকেট দিল আফরোজ প্রমূখ।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), চট্টগ্রাম মোঃ শরীফ উদ্দিন বলেন- মূলত তথ্য ঘাটতি ও তথ্য বিভ্রাটের কারণে অধিকাংশ অভিবাসী কর্মীগণ সমস্যার শিকার হন। তাদের চ্যালেঞ্জগুলো নির্ধারণ করে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি এ সময় সমন্বয় সভার গুরুত্বপূর্ণ ফিডব্যাকগুলো জেলা অভিবাসন কমিটিতে উপস্থাপনের উপর গুরুত্বারূপ করেন। তিনি আরো বলেন- যৌথভাবে কাজ করলে অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও ঝুঁকিমুক্ত হবে। তাই এ ধরণের সমন্বয় সভা যত বেশি আয়োজন করা হবে, অভিবাসী কর্মীদের সেবা, অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা তত বেশি সহজ হবে।
বিশেষ অতিথি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) সুব্রত দাশ তাঁর বক্তব্যে বলেন- বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও তাদের অধিকার নিশ্চিতে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। শ্রম অভিবাসী, বিদেশফেরত ব্যক্তি অথবা প্রবাসী পরিবার প্রতারণার শিকার হলে লিগ্যাল এইড অফিসে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অবশ্যই বিদেশগামী কর্মীদের ন্যায্য ও স্বচ্ছ চুক্তিপত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শ্রমিকরা প্রতারণা, অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকে।
সভাপতি ও প্রত্যাশী নির্বাহী পরিচালক মনোয়ারা বেগম বলেন-সরকারি ও বেসরকারিউন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সবাই একই প্লাটফর্মে অভিবাসীদের পাশে থাকতে প্রত্যাশী সব সময় এ ধরণের ইভেন্ট আয়োজনে আন্তরিক। তিনি আরও বলেন যে, তথ্যপ্রদান, প্রাসঙ্গিক পরামর্শ, আইনগত সহায়তা ও কমিউনিটি পর্যায়ের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদেশগমন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।
বিশেষ অতিথি ডিইএমও’র সহকারী পরিচালক, বিকেটিটিসি অধ্যক্ষ, মহিলা টিটিসি’র অধ্যক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সহকারী ব্যবস্থাপকবৃন্দ জেনে বুঝে ও দক্ষ হয়ে বিদেশ যাওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রবাসী ও তাদের পরিবারের কল্যাণে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের সরকারি পরিষেবা সমূহ বর্ণনা করেন। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে চট্টগ্রামে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), বিমান বন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, আইনজীবি, রিক্রুটিং এজেন্সি, গণমাধ্যম কর্মী, মাইগ্রেশন ফোরাম, জিএমসি এবং অভিবাসিকর্মী প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত থেকে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
রিপোর্টারের নাম 









