উৎসবমুখর পরিবেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল গণভোট। এতে দেশের ভোটাররা ‘হ্যা’ ও ‘না’ যেকোন একটিতে সিল মেরে সরকারের সংস্কার উদ্যোগের প্রতি সমর্থন ও বিরোধীর রায় দিয়েছেন।
ফলাফল গণনা শেষে পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি কমিশন (ইসি) জানায় যে, বিপুল ভোটে ‘হ্যা’ ভোট পাশ করেছে। এবার সেই ভোট থেকে প্রায় ১০ লাখ ‘হ্যা’ এর পক্ষের রায় বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ করা হয়েছে সংশোধিত গেজেটও।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এ পরিবর্তনের বিষয়ে জানা যায়। এর আগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে এ সংশোধনী প্রকাশ করা হয়।
পুনরায় প্রকাশিত গেজেটে উল্লেখ করা হয়, আগের গেজেটে ‘হ্যা’ ভোট ছিল ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি। সেখান থেকে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান হিসাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের পক্ষের রায়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি।
ইসির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি যাচাইয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
ওই ভোটের ফলাফল গত ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। প্রথম গেজেটের হিসাব অনুযায়ী ‘না’ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। হ্যাঁ এবং না ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬ জন।
সংশোধিত গেজেটের হিসাব অনুযায়ী গণভোটে ‘না’ ভোটের সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি। হ্যাঁ এবং না ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টি।
সংশোধিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগের তুলনায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে। অন্যদিকে ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি।
বৈধ ভোট কমলেও বাতিল করা ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে। সার্বিকভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে।
নির্বাচন কমিশন এই সংশোধনীর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে, কমিশনের আদেশক্রমেই এই সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এই গণভোটের মাধ্যমেই জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক বৈধতা ও জনসম্মতি চূড়ান্ত করার কথা আছে।
রিপোর্টারের নাম 














