১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

​সাংবাদিক জাহাঙ্গীরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

​”সন্ত্রাসীদের কোনো দল, জাত কিংবা ধর্মের পরিচয় থাকতে পারে না; তাদের একমাত্র পরিচয় তারা সন্ত্রাসী।” দৈনিক সাঙ্গুর সিনিয়র স্টাফ ফটোগ্রাফার সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের ওপর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা একদল সন্ত্রাসীর পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
​গত বৃহস্পতিবারের এই নৃশংস হামলার ঘটনায় চট্টগ্রাম নগর ও জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ রবিবার (১৭ মে) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘দৈনিক সাঙ্গু পরিবার’-এর ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
​প্রতিবাদ সমাবেশে চট্টগ্রামের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন এবং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
​ভুক্তভোগী সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর ওপর এই পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। হামলার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, হাটহাজারী উপজেলার ৩ নম্বর বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছিল স্থানীয় একটি চক্র। একজন সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি নিয়মিত এসব সমাজবিরোধী কাজের প্রতিবাদ করায় হাটহাজারী উপজেলা শ্রমিক দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. রুবেলের নেতৃত্বে সোহেলসহ ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁর ওপর পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালায়।
​তিনি আরও জানান, রুবেল ও সোহেলের একটি নিজস্ব বাহিনী রয়েছে এবং তারা এলাকার সব অপকর্মের মূল হোতা। নিজেদের এই অপকর্ম ঢাকতে তারা বর্তমান সরকারের একজন জনপ্রিয় মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে চলে, যা প্রকারান্তরে ওই মন্ত্রীর ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। ঘটনার দিন হামলার আগে জাহাঙ্গীর আলমকে একটি দোকানে অবরুদ্ধ করা হয়। পরে লোহার রড, লাঠি এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করা হয়।
​মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাংবাদিক নেতারা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এমন কাপুরুষোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি ব্যবহার করে যারা গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হাত তোলে, তারা সমাজের শত্রু।
​বক্তারা চট্টগ্রামের জনপ্রিয় মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমরা আশা করি মাননীয় মন্ত্রী এই সস্তা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী অপরাধীদের কোনো প্রকার আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন না এবং অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করবেন।”
​সমাবেশ থেকে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ প্রশাসনকে আগামী ৭২ ঘণ্টার (৩ দিন) সুনির্দিষ্ট আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছেন।
​নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামলার মূল হোতা শ্রমিক দল নেতা রুবেল ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অপরাধীরা ধরা না পড়লে পুরো বৃহত্তর চট্টগ্রাম জুড়ে আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
মানববন্ধন উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ও , দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এস এম পিন্টু, সাংবাদিক ও কলামিস্ট কামাল পারভেজ,নয়া দিগন্তের ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিষ্ট ফোরামের সভাপতি ষ্টালিন দে, সিনিয়র সহ সভাপতি রিটন মজুমদার ,দৈনিক দেশবার্তা পত্রিকার এম আর আমিন, সিআরএ সাংগঠনিক সম্পাদক অন্তর মাহমুদ রুবেল, মিজান সমরকান্দি , রেখা চৌধুরী, , সিটিজি পোস্টের হাসান সৈকত, দি বাংলাদেশ টুডে পত্রিকার মাজহারুল ইসলাম রানা, দৈনিক সাঙ্গুর সিনিয়র রিপোর্টার আশিকুর রহমান, আব্দুল আলী মজুমদার রান্টু, মঈনউদ্দীন মিলন, জাহিদুল ইসলাম, আছহাব হিরু, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার বেলায়েত, সাতকানিয়া প্রতিনিধি আলমগীর সবুজ, হাটহাজারী প্রতিনিধি আজহার আল মাহমুদ, দৈনিক পূর্বকোণের রিপোর্টার পরিতোষ বড়ুয়া রানা, দৈনিক সোনালী কন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার শাহজালাল, সাপ্তাহিক ঈশানের রিপোর্টার মো: মাঈনুদ্দীন, দৈনিক খবর প্রতিদিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ শাহাদাত, শাহিন আহমেদ, সৌরভ ভট্টাচার্য, বিজয় টিভির ক্যামেরা জার্নালিস্ট স্ট্যালেন দে, চট্টগ্রাম ভয়েসের বার্তা সম্পাদক মো: ফোরমান, এশিয়ান টিভির ক্যামেরা জার্নালিস্ট লিটন, সিটিজি নিউজের রিপোর্টার মোঃ আশফাকুলসহ আরও অনেক গণ্যমান্য সাংবাদিকবৃন্দ।

Tag :
About Author Information

আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে সৌম্যর সরকারের মধ্যে

প্রশিক্ষণের দক্ষতা সবার কাছে ছড়িয়ে দিন: ডিসি জাহিদ

​সাংবাদিক জাহাঙ্গীরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট টাইম : ১০:৫১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

​”সন্ত্রাসীদের কোনো দল, জাত কিংবা ধর্মের পরিচয় থাকতে পারে না; তাদের একমাত্র পরিচয় তারা সন্ত্রাসী।” দৈনিক সাঙ্গুর সিনিয়র স্টাফ ফটোগ্রাফার সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের ওপর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা একদল সন্ত্রাসীর পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
​গত বৃহস্পতিবারের এই নৃশংস হামলার ঘটনায় চট্টগ্রাম নগর ও জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ রবিবার (১৭ মে) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘দৈনিক সাঙ্গু পরিবার’-এর ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
​প্রতিবাদ সমাবেশে চট্টগ্রামের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন এবং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
​ভুক্তভোগী সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর ওপর এই পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। হামলার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, হাটহাজারী উপজেলার ৩ নম্বর বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছিল স্থানীয় একটি চক্র। একজন সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি নিয়মিত এসব সমাজবিরোধী কাজের প্রতিবাদ করায় হাটহাজারী উপজেলা শ্রমিক দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. রুবেলের নেতৃত্বে সোহেলসহ ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁর ওপর পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালায়।
​তিনি আরও জানান, রুবেল ও সোহেলের একটি নিজস্ব বাহিনী রয়েছে এবং তারা এলাকার সব অপকর্মের মূল হোতা। নিজেদের এই অপকর্ম ঢাকতে তারা বর্তমান সরকারের একজন জনপ্রিয় মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে চলে, যা প্রকারান্তরে ওই মন্ত্রীর ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। ঘটনার দিন হামলার আগে জাহাঙ্গীর আলমকে একটি দোকানে অবরুদ্ধ করা হয়। পরে লোহার রড, লাঠি এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করা হয়।
​মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাংবাদিক নেতারা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এমন কাপুরুষোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি ব্যবহার করে যারা গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হাত তোলে, তারা সমাজের শত্রু।
​বক্তারা চট্টগ্রামের জনপ্রিয় মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমরা আশা করি মাননীয় মন্ত্রী এই সস্তা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী অপরাধীদের কোনো প্রকার আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন না এবং অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করবেন।”
​সমাবেশ থেকে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ প্রশাসনকে আগামী ৭২ ঘণ্টার (৩ দিন) সুনির্দিষ্ট আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছেন।
​নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামলার মূল হোতা শ্রমিক দল নেতা রুবেল ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অপরাধীরা ধরা না পড়লে পুরো বৃহত্তর চট্টগ্রাম জুড়ে আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
মানববন্ধন উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ও , দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এস এম পিন্টু, সাংবাদিক ও কলামিস্ট কামাল পারভেজ,নয়া দিগন্তের ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিষ্ট ফোরামের সভাপতি ষ্টালিন দে, সিনিয়র সহ সভাপতি রিটন মজুমদার ,দৈনিক দেশবার্তা পত্রিকার এম আর আমিন, সিআরএ সাংগঠনিক সম্পাদক অন্তর মাহমুদ রুবেল, মিজান সমরকান্দি , রেখা চৌধুরী, , সিটিজি পোস্টের হাসান সৈকত, দি বাংলাদেশ টুডে পত্রিকার মাজহারুল ইসলাম রানা, দৈনিক সাঙ্গুর সিনিয়র রিপোর্টার আশিকুর রহমান, আব্দুল আলী মজুমদার রান্টু, মঈনউদ্দীন মিলন, জাহিদুল ইসলাম, আছহাব হিরু, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার বেলায়েত, সাতকানিয়া প্রতিনিধি আলমগীর সবুজ, হাটহাজারী প্রতিনিধি আজহার আল মাহমুদ, দৈনিক পূর্বকোণের রিপোর্টার পরিতোষ বড়ুয়া রানা, দৈনিক সোনালী কন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার শাহজালাল, সাপ্তাহিক ঈশানের রিপোর্টার মো: মাঈনুদ্দীন, দৈনিক খবর প্রতিদিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ শাহাদাত, শাহিন আহমেদ, সৌরভ ভট্টাচার্য, বিজয় টিভির ক্যামেরা জার্নালিস্ট স্ট্যালেন দে, চট্টগ্রাম ভয়েসের বার্তা সম্পাদক মো: ফোরমান, এশিয়ান টিভির ক্যামেরা জার্নালিস্ট লিটন, সিটিজি নিউজের রিপোর্টার মোঃ আশফাকুলসহ আরও অনেক গণ্যমান্য সাংবাদিকবৃন্দ।