আজ ১৫ই আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর শাহাদাত বার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই কালো রাতে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের নিজ বাসভবনে সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে তিনি সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন।তার এই আত্মত্যাগের দিনটিকে বাংলাদেশে গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে স্মরণ করা হয়।
নিচে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হলো:
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়
জন্ম: ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ।
স্থান: গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রাম।
পিতা ও মাতা: শেখ লুৎফর রহমান এবং সায়েরা খাতুন।ডাকনাম: খোকা।
শিক্ষা জীবন
প্রাথমিক শিক্ষা: গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুল।
মাধ্যমিক: গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে ১৯৪২ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন।
উচ্চশিক্ষা: কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) থেকে ১৯৪৭ সালে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
আইন শিক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন (পরবর্তীতে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে বহিষ্কৃত হন)।
রাজনৈতিক উত্থান ও আন্দোলন
আন্দোলনে হাতেখড়ি: ছাত্রজীবন থেকেই অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগে যোগ দিয়ে পাকিস্তান আন্দোলনে সক্রিয় হন।
ভাষা আন্দোলন: ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা বাংলা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন এবং কারাবরণ করেন।
ছয় দফা দাবি: ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আদায়ের জন্য ঐতিহাসিক ‘৬ দফা দাবি’ পেশ করেন।
‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি: ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ২৩শে ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
১৯৭০ এর নির্বাচন: তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্রনায়ক
৭ই মার্চের ভাষণ: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
“স্বাধীনতার ঘোষণা: ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
পাকিস্তানের কারাগার: স্বাধীনতার ঘোষণার পরপরই পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালী কারাগারে বন্দি করে রাখে।
প্রথম রাষ্ট্রপতি: তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
দেশ পুনর্গঠন: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন এবং একটি আধুনিক সংবিধান প্রণয়নে তিনি মূল নেতৃত্ব দেন।
শাহাদাত বরণ
তারিখ: ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোররাতে।
ঘটনা: দেশী-বিদেশী চক্রান্তে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তাকে এবং তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে (সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ) নির্মমভাবে হত্যা করে।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও বর্তমান অবস্থা:
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই দিনটিকে ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং সরকারি ছুটি চালু করে। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই রাষ্ট্রীয় ছুটি বাতিল করে। বর্তমানে দিনটি প্রধানত বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে পালিত হয়।
স্বাধীন বর্মন 










