০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
আবাসিক এলাকা থেকে অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অপসারণে থাকছে কঠোর আইন

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানে আসছে রাউজানসহ পাঁচ উপজেলা

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত, টেকসই ও আধুনিক মহানগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ২৫ বছর মেয়াদি ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২৫-২০৫০)’ এর খসড়ার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
শনিবার ১ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে সিডিএ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মাস্টারপ্ল্যানের খসড়াটি উন্মোচন করা হয় এবং এর ওপর সর্বসাধারণের মতামত চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান ২০২৫–২০৫০-এর খসড়া চূড়ান্ত মহাপরিকল্পনার ওপর আগামী ২ আগস্ট থেকে ৬০ দিনব্যাপী জনমত গ্রহণ শুরু হচ্ছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাগরিকরা এ পরিকল্পনার ওপর মতামত, আপত্তি, সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন।
চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প পরিচালক মো. আবু ঈসা আনসারী মাস্টারপ্ল্যানের পটভূমি, উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এলাকা এবং খসড়া মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন খসড়া চূড়ান্ত মাস্টারপ্ল্যানের ওপর জনগণের মতামত গ্রহণ করা হবে। নাগরিকরা চউক ভবনের চতুর্থ তলায় গিয়ে খসড়া মহাপরিকল্পনার প্রতিবেদন, প্রস্তাবনা ও সংশ্লিষ্ট মানচিত্র সরাসরি পর্যালোচনা করতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইন ও ওয়েব-জিআইএসের মাধ্যমেও মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, একটি মাস্টারপ্ল্যান শুধু বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী কিংবা পরিকল্পনাবিদদের তৈরি নথি হতে পারে না। একটি এলাকার বাস্তব সমস্যা ও প্রয়োজন সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন সেখানকার বাসিন্দারা। জলাবদ্ধতা, যানজট, খাল-পুকুর-জলাশয় সংরক্ষণ, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও গণপরিবহনের ঘাটতির মতো বিষয়গুলো জনগণের মতামতের মাধ্যমে পরিকল্পনায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।
এ সময় চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘জনগণ ছাড়া মাস্টারপ্ল্যান নয়, জনগণের জন্যই এই মাস্টারপ্ল্যান।’ চট্টগ্রামের মানুষ কী ধরনের নগর চান, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে এবং আগামী দিনের চট্টগ্রাম কেমন হওয়া উচিত, এসব বিষয়ে জনগণের মতামত নিয়েই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।
চউক চেয়ারম্যান জানান, চট্টগ্রামের প্রথম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয় ১৯৬১ সালে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যান এবং ২০০৮ সালের ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে প্রণয়নাধীন মাস্টারপ্ল্যানটি চট্টগ্রামের চতুর্থ মহাপরিকল্পনা।যা ২৫ বছর মেয়াদি। জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য পরিকল্পনাটি উন্মুক্ত করার দিনটি চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়নের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যানটিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং কড়া নিয়ম আনা হয়েছে। এর মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আওতা ও সীমানা বৃদ্ধি (নতুন ৫ উপজেলা অন্তর্ভুক্তি):

নতুন এই মহাপরিকল্পনার মোট আয়তন ধরা হয়েছে প্রায় ১,২৫৫ বর্গকিলোমিটার।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি এবারই প্রথম সিডিএ-র মহাপরিকল্পনায় শহরের বাইরের ৫টি উপজেলাকে যুক্ত করা হয়েছে। উপজেলাগুলো হলো: আনোয়ারা, রাউজান, হাটহাজারী, পটিয়া ও সীতাকুণ্ড।এসব এলাকায় যেকোনো সংস্থা উন্নয়ন প্রকল্প বা ভবনের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সিডিএ-র এই মাস্টারপ্ল্যানের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বাধ্য থাকবে।

২. মিনি ও স্যাটেলাইট টাউন গঠন:

মূল চট্টগ্রাম শহরের ওপর জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপ কমাতে এই উপজেলাগুলোকে কেন্দ্র করে স্যাটেলাইট টাউন বা মিনি টাউন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে আনোয়ারা, পটিয়া এবং হাটহাজারী উপজেলাকে কেন্দ্র করে বিশেষায়িত শিল্প ও বাণিজ্যিক হাব বা স্যাটেলাইট টাউন তৈরির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে সাংহাই বা ইস্তাম্বুল শহরের আদলে ‘ওয়ান সিটি, টু টাউনস’ ধারণায় পুরো অঞ্চলকে সাজানো হবে।

৩. কঠোর নিয়ম ও আইন অমান্যকারীদের শাস্তি:

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিডিএ-র অনুমোদিত নকশার বাইরে বা ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো ভবন নির্মাণ করা হলে সেই ঘরের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।
এটি কঠোরভাবে তদারকি করতে স্বরাষ্ট্র, আইন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি বিশেষ শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে।

৪. আবাসিক এলাকা থেকে অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অপসারণ:

আবাসিক এলাকার শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং যানজট ও পার্কিং সংকট কমাতে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য ১ মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৫. পরিবেশ রক্ষা ও নাগরিক সুবিধা:

অতীতে উন্নয়নের নামে চট্টগ্রামের পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা রোধে এবার পাহাড় কাটা বন্ধ ও জলাশয় রক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ এবং নাগরিকদের জন্য খেলার মাঠ, পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
বড় প্রকল্প যেমন– মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী নদী রক্ষা প্রকল্পগুলোকে এই মূল মহাপরিকল্পনার সাথে সমন্বিত করা হয়েছে।

নাগরিকদের মতামত ও আপত্তি:

সময়সীমা: ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত (৬০ দিন)।
সরাসরি পরিদর্শন: নাগরিকগন সরাসরি সিডিএ ভবনের ৪র্থ তলার হলরুমে গিয়ে খসড়া প্রতিবেদন, প্রস্তাবনা ও নকশা (ম্যাপ) দেখতে পারবেন।
অনলাইনে মতামত: সরাসরি সিডিএ-তে লিখিতভাবে অথবা সিডিএ-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.cda.gov.bd এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার মতামত বা আপত্তি জমা দিতে পারবেন

Tag :
About Author Information

আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে সৌম্যর সরকারের মধ্যে

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানে আসছে রাউজানসহ পাঁচ উপজেলা

আবাসিক এলাকা থেকে অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অপসারণে থাকছে কঠোর আইন

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানে আসছে রাউজানসহ পাঁচ উপজেলা

আপডেট টাইম : ০১:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত, টেকসই ও আধুনিক মহানগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ২৫ বছর মেয়াদি ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২৫-২০৫০)’ এর খসড়ার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
শনিবার ১ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে সিডিএ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মাস্টারপ্ল্যানের খসড়াটি উন্মোচন করা হয় এবং এর ওপর সর্বসাধারণের মতামত চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান ২০২৫–২০৫০-এর খসড়া চূড়ান্ত মহাপরিকল্পনার ওপর আগামী ২ আগস্ট থেকে ৬০ দিনব্যাপী জনমত গ্রহণ শুরু হচ্ছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাগরিকরা এ পরিকল্পনার ওপর মতামত, আপত্তি, সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন।
চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প পরিচালক মো. আবু ঈসা আনসারী মাস্টারপ্ল্যানের পটভূমি, উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এলাকা এবং খসড়া মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন খসড়া চূড়ান্ত মাস্টারপ্ল্যানের ওপর জনগণের মতামত গ্রহণ করা হবে। নাগরিকরা চউক ভবনের চতুর্থ তলায় গিয়ে খসড়া মহাপরিকল্পনার প্রতিবেদন, প্রস্তাবনা ও সংশ্লিষ্ট মানচিত্র সরাসরি পর্যালোচনা করতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইন ও ওয়েব-জিআইএসের মাধ্যমেও মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, একটি মাস্টারপ্ল্যান শুধু বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী কিংবা পরিকল্পনাবিদদের তৈরি নথি হতে পারে না। একটি এলাকার বাস্তব সমস্যা ও প্রয়োজন সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন সেখানকার বাসিন্দারা। জলাবদ্ধতা, যানজট, খাল-পুকুর-জলাশয় সংরক্ষণ, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও গণপরিবহনের ঘাটতির মতো বিষয়গুলো জনগণের মতামতের মাধ্যমে পরিকল্পনায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।
এ সময় চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘জনগণ ছাড়া মাস্টারপ্ল্যান নয়, জনগণের জন্যই এই মাস্টারপ্ল্যান।’ চট্টগ্রামের মানুষ কী ধরনের নগর চান, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে এবং আগামী দিনের চট্টগ্রাম কেমন হওয়া উচিত, এসব বিষয়ে জনগণের মতামত নিয়েই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।
চউক চেয়ারম্যান জানান, চট্টগ্রামের প্রথম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয় ১৯৬১ সালে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যান এবং ২০০৮ সালের ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে প্রণয়নাধীন মাস্টারপ্ল্যানটি চট্টগ্রামের চতুর্থ মহাপরিকল্পনা।যা ২৫ বছর মেয়াদি। জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য পরিকল্পনাটি উন্মুক্ত করার দিনটি চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়নের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যানটিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং কড়া নিয়ম আনা হয়েছে। এর মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আওতা ও সীমানা বৃদ্ধি (নতুন ৫ উপজেলা অন্তর্ভুক্তি):

নতুন এই মহাপরিকল্পনার মোট আয়তন ধরা হয়েছে প্রায় ১,২৫৫ বর্গকিলোমিটার।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি এবারই প্রথম সিডিএ-র মহাপরিকল্পনায় শহরের বাইরের ৫টি উপজেলাকে যুক্ত করা হয়েছে। উপজেলাগুলো হলো: আনোয়ারা, রাউজান, হাটহাজারী, পটিয়া ও সীতাকুণ্ড।এসব এলাকায় যেকোনো সংস্থা উন্নয়ন প্রকল্প বা ভবনের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সিডিএ-র এই মাস্টারপ্ল্যানের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বাধ্য থাকবে।

২. মিনি ও স্যাটেলাইট টাউন গঠন:

মূল চট্টগ্রাম শহরের ওপর জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপ কমাতে এই উপজেলাগুলোকে কেন্দ্র করে স্যাটেলাইট টাউন বা মিনি টাউন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে আনোয়ারা, পটিয়া এবং হাটহাজারী উপজেলাকে কেন্দ্র করে বিশেষায়িত শিল্প ও বাণিজ্যিক হাব বা স্যাটেলাইট টাউন তৈরির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে সাংহাই বা ইস্তাম্বুল শহরের আদলে ‘ওয়ান সিটি, টু টাউনস’ ধারণায় পুরো অঞ্চলকে সাজানো হবে।

৩. কঠোর নিয়ম ও আইন অমান্যকারীদের শাস্তি:

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিডিএ-র অনুমোদিত নকশার বাইরে বা ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো ভবন নির্মাণ করা হলে সেই ঘরের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।
এটি কঠোরভাবে তদারকি করতে স্বরাষ্ট্র, আইন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি বিশেষ শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে।

৪. আবাসিক এলাকা থেকে অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অপসারণ:

আবাসিক এলাকার শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং যানজট ও পার্কিং সংকট কমাতে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য ১ মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৫. পরিবেশ রক্ষা ও নাগরিক সুবিধা:

অতীতে উন্নয়নের নামে চট্টগ্রামের পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা রোধে এবার পাহাড় কাটা বন্ধ ও জলাশয় রক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ এবং নাগরিকদের জন্য খেলার মাঠ, পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
বড় প্রকল্প যেমন– মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী নদী রক্ষা প্রকল্পগুলোকে এই মূল মহাপরিকল্পনার সাথে সমন্বিত করা হয়েছে।

নাগরিকদের মতামত ও আপত্তি:

সময়সীমা: ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত (৬০ দিন)।
সরাসরি পরিদর্শন: নাগরিকগন সরাসরি সিডিএ ভবনের ৪র্থ তলার হলরুমে গিয়ে খসড়া প্রতিবেদন, প্রস্তাবনা ও নকশা (ম্যাপ) দেখতে পারবেন।
অনলাইনে মতামত: সরাসরি সিডিএ-তে লিখিতভাবে অথবা সিডিএ-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.cda.gov.bd এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার মতামত বা আপত্তি জমা দিতে পারবেন